What is Epilepsy? একধরনের খিঁচুনি – জেনে নিন শিশুদের কি সমষ্যা হয়

Epilepsy syndrome in children বা Epilepsy – এপিলেপ্সি শিশুদের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়বিক রােগ, এপিলেপ্সির প্রধান লক্ষণ হল সিজার (seizure) বা খিঁচুনি। রােগ নির্ণয় এবং ঠিকমতাে চিকিৎসা হলে শিশুবয়সের অনেক এপিলেপ্সি ভাল হয়ে যায়। কিন্তু এর চিকিৎসার পরেও অল্প সংখ্যক শিশু দীর্ঘকাল এপিলেন্সির সঙ্গে নানারকম স্নায়বিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগতে পারে। 

কি হয় Epilepsy – এর খিঁচুনি

এই রোগে মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষ গুলির মধ্যে এক ধরনের অস্বাভাবিক, আচমকা, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক স্পন্দন তৈরী হয় এবং যে খিঁচুনি হয় তাকে বলা হয় সিজার (Seizure)। সিজারের নানারকম লক্ষণ আছে। এর মধ্যে যে লক্ষণটি আমাদের কাছে সবচেয়ে পরিচিত সেটি হল হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে হাত-পায়ে খিঁচুনি হওয়া।

বিনা কারণে বারবার খিঁচুনি হলে বা খিঁচুনি হওয়ার প্রবণতা থাকলে তাকে বলা হয় এপিলেপ্সি- Epilepsy. এখানে বিনা কারণ’ বলতে যা বােঝাতে চাইছি চিকাৎসা বিজ্ঞানে এর কারন জানা নেই।

খিঁচুনি ছাড়া আরও বহু লক্ষণ দেখা যেতে পারে

  1. হঠাৎ বিনা কারণে ১০-১৫ সেকেন্ডের জন্য বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়ে ফেলা। 
  2. অল্প সময়ের জন্য হঠাৎ মন বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া এবং বাস্তবের সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়ে এটা-ওটা করা, আর স্মৃতি হারিয়ে ফেলা। 
  3. হঠাৎ হাত-পায়ের জোর হারিয়ে পড়ে যাওয়া। 
  4. হঠাৎ মন বিভ্রান্ত হয়ে বিকৃত স্বাদ বা অবাস্তবিক শব্দ, গন্ধ বা অনুভূতি হওয়া। 

বাস্তবিক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে খিঁচুনির লক্ষণগুলির কতগুলি নির্দিষ্ট ধরন থাকলেও যাদের এপিলেপ্সি আছে তাদের প্রত্যেকের ধরনের মধ্যে পার্থক্য আছে। আমরা আগে দেখেছি যে জ্বরের সঙ্গে শিশুদের এক বিশেষ ধরনের seizure বা খিঁচুনি হতে পারে, যাকে আক্ষরিক অর্থেই বলা হয় “জ্বরের সিজার’ (Febrile seizures) বা জ্বরের সঙ্গে তড়কা। Febrile seizures – এ সিজার এর কারণ হচ্ছে জ্বর।

অল্প কয়েক ধরনের এপিলেপ্সি Epilepsy বাদ দিলে অধিকাংশ এপিলেন্সিরই Epilepsy-এর কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। এই জন্য এপিলেপ্সির Epilepsy সংজ্ঞা হল ‘বিনা কারণে বারবার seizure বা খিঁচুনি হওয়া এবং খিঁচুনি হওয়ার প্রবণতা’।

দুই ধরনের Epilepsy

শিশুদের মধ্যে দুটি বিশিষ্ট ধরনের এপিলেপ্সি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, এই দুই ধরনের এপিলেপ্সিকে বলে

  • গ্র্যান্ড মল (Grand Mal)
  • পেটি মল (Petit Mal)

গ্র্যান্ড মল (Grand Mal): বাইরে থেকে দেখলে গ্র্যান্ড মল সিজার আর জ্বরের তড়কার মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। মূল পার্থক্য হল জ্বরের তড়কা হয় শুধু জ্বর হলে, কিন্তু গ্র্যান্ড মল এপিলেপ্সিতে সিজার বা খিঁচুনি হয় ‘বিনা কারণে’, যে-কোনও সময় এবং এটি বারবার হতে পারে। জ্বরের তড়কায় শিশু হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং সঙ্গে সঙ্গে শিশুর হাত-পা শক্ত টান টান হয়ে পড়ে, ঘাড় পিছনের দিকে বেঁকে যেতে পারে, চোখ দুটো উপরের দিকে উঠে যায়, শিশুর গলা থেকে গোঁ গোঁ শব্দ বেরতে পারে এব শিশুর পাজরার মাংসপেশিগুলি শক্ত হয়ে টান টান হয় বলে শিশু শ্বাস নিতে পারে না এবং ক্রমে শিশুর ঠোট ও গায়ের রং নীল বর্ণ হতে পারে।

বাবা-মা বা প্রত্যক্ষদর্শীর কাছে শিশুর এই অবস্থাটি দীর্ঘ সময় ধরে আছে বলে মনে হলেও বাস্তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এটি ৩০ সেকেন্ড থেকে ১-২ মিনিটের বেশি থাকে। এই অবস্থাটি শেষ হয় শিশুর মাংসপেশির ঝাঁকানি দিয়ে। ঝাঁকানি সাধারণত শুরু হয় ধীরে ধীরে, হাত, পা বা ঠোঁটের মাংসপেশির সংকোচন প্রসারণে। এই ঝকানি ক্রমে বাড়তে থাকে এবং অবশেষে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় মুখ থেকে গাঁজলা বেরতে পারে। হাত-পায়ের ঝকানি সাধারণত ২০-৩০ সেকেন্ড থেকে ১-২ মিনিট, বা বিরল ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় ধরে থাকতে পারে। এর পর ঝাঁকানির তীব্রতা ক্রমশ কমে গিয়ে ঝাঁকানি বন্ধ হয়ে যায়। ঝকানির সময় দাঁতে দাঁত লেগে শিশুর জিভ কেটে যেতে পারে বা শিশু এ সময় প্রস্রাব করে ফেলতে পারে। 

ঝকানি শেষ হওয়ার পর শিশুর জ্ঞান ফিরে আসতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। জ্ঞান ফিরে আসার পর শিশুকে ক্লান্ত, বিভ্রান্ত দেখায়। শিশু এর পর কিছুক্ষণের জন্য ঘুমিয়ে পড়তে পারে এবং ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর মাথা ব্যথা হচ্ছে বলতে পারে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments