Best treatment for asthma of your child | শিশুর Asthma হলে কি করনীয়

Best treatment for asthma বোঝার আগে বুঝতে হবে শিশুদের অ্যাজমা বা হাঁপানি রােগ নিয়ে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নানারকম ভুল ধারণা ও ভিত্তিহীন লৌকিক বিশ্বাস আছে। যার ফলে শিশু Asthma রােগে ভুগলেও অনেক সময় তার সঠিক রােগ নির্ণয় হয় না বা যথােপযুক্ত চিকিৎসা হয় না।

Science infographic vector created by brgfx – www.freepik.com

Asthma রোগটি কি? What is asthma? 

WHO-এর সংজ্ঞায় Asthma একটি দীর্ঘস্থায়ী রােগ যার বৈশিষ্ট্য হল, বারবার শ্বাস কষ্ট হওয়া এবং তার সঙ্গে নিশ্বাস ফেলার সময় বুকে সাঁই সাঁই শব্দ হওয়া। এই শব্দযুক্ত শ্বাসপ্রশ্বাসকে বলে হুইজ (Wheeze)।

Asthma রােগে শ্বাসকষ্ট ও নিশ্বাস ফেলার সময় সাঁইসাঁই শব্দ হওয়ার কারণ ফুসফুসের শ্বাসনালির প্রদাহ। প্রদাহের ফলে শ্বাসনালির অভ্যন্তরস্থ ঝিল্লি ফুলে ওঠে, ঝিল্লি থেকে শ্লেষ্মক্ষরণ হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসনালির মাংসপেশির সংকোচন হয়, ফলে শ্বাসনালির পরিধি সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। এই ঘটনাগুলির সমন্বয়ে শ্বাসনালি দিয়ে ফুসফুসে বাতাস যাতায়াতে বাধার সৃষ্টি হয়, শ্বাস ফেলতে কষ্ট হয় এবং সরু শ্বাসনালি দিয়ে বাতাস বেরনাের সময়। সাঁইসাঁই শব্দের (হুইজ) উৎপত্তি হয়। যেহেতু শিশুদের শ্বাসনালি বয়স্ক মানুষের শ্বাসনালির চেয়ে অপেক্ষাকৃত অনেক সরু এবং নমনীয় সেইজন্য শিশুদের শ্বাসনালিতে প্রদাহ হলে ফুসফুসের মধ্যে বাতাস সঞ্চালনে সহজেই বাধা পড়ে, ফলে শিশুদের ক্ষেত্রে খুব অল্প সময়ের মধ্যে Asthma – র তীব্রতার বাড়াবাড়ি হতে দেখা যায়।

ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে প্রধানত ভাইরাসঘটিত সংক্রামক রােগের দ্বারা, ঘাস, গাছগাছড়ার ফুলের রেণু, বাড়ির বিছানা, আসবাবপত্রের ধুলাের সঙ্গে মেশা একধরনের কীটের ভগ্নাবশেষ (House Dust Mite), বাড়িতে পােষা কুকুর, বেড়াল, পাখির গা থেকে ক্ষরিত ধূলিকণা, দূষণযুক্ত আবহাওয়া, মােটর গাড়ির ধোঁয়া, বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়া, শারীরিক পরিশ্রম ইত্যাদি।

True Fact

খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয় কারণ Asthma শিশুদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী রােগ। যথাযথ চিকিৎসা না হলে Asthma রােগে শিশুর স্বাস্থ্যহানি, বারংবার রােগের আক্রমণ এবং কখনও কখনও রােগের প্রাণসংশয়কারী বাড়াবাড়ি হওয়া সম্ভব। অথচ গত ২-৩ দশকের মধ্যে Asthmaর চিকিৎসায় অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে এই সমস্ত সমস্যাই মােটামুটি পরিহার করা যায়।

বাংলা ভাষায় Asthmaর প্রতিশব্দ হাঁপের রােগ বা হাঁপানি রােগ, কিন্তু হাঁপানি রােগের নাম শুনলে বৃদ্ধ বয়সের কাশি ও শ্বাসকষ্টের যে ছবি আমাদের মনে সচরাচর ভেসে আসে, তার সঙ্গে শিশুদের Asthmaর বহু পার্থক্য আছে। কাজেই এই রােগটিকে হাঁপানি রােগ না বলে Asthma বলাই যুক্তিযুক্ত। কারওরই কোনওদিন Asthma হয়নি। তেমনই বাবা-মায়ের Asthma থাকলে শিশুদের মধ্যে Asthmaর সম্ভাবনা অনেকখানি বেড়ে যায়। Asthmaর সঙ্গে আরও দুটি রােগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। এই দুটি রােগ হল একজিমা (Eczema) বলে একটি চর্মরােগ ও ‘সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস’ (Seasonal Allergic Rhinitis) বলে একটি অ্যালার্জি রােগ। যাদের বা যে পরিবারে Asthma আছে তাদের মধ্যে Eczema & Seasonal Allergic Rhinitis-এর সম্ভাবনা বেশি থাকে।

Asthma ঠিক কখন থেকে বোঝা যায়

Asthma যে-কোনও বয়সে হতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে Asthma শুরু হয় শৈশবে, সাধারণত ২ থেকে ৫-৬ বছর বয়সের মধ্যে। কিন্তু Asthma জন্মের পর থেকেই বা বৃদ্ধ বয়সেও শুরু হতে পারে। আমাদের দেশে শিশুদের মধ্যে Asthma প্রাদুর্ভাব ঠিক কত তা নিয়ে মতভেদ আছে। তবে বিভিন্ন গবেষণা থেকে অনুমান করা হয় যে এই প্রাদুর্ভাবের হার ৫ থেকে ১০ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের সমস্ত শিশুর মধ্যে ৫-১০ শতাংশ শিশু Asthma রােগে ভােগে। Asthma হার মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের মধ্যে কিছু বেশি দেখা যায়।

Asthma প্রকাশ ও লক্ষণ

অন্যান্য অনেক রােগের তুলনায় Asthma রােগে বেশ কয়েকটি বিশিষ্টতা দেখা যায়। Asthma রােগ পৌনঃপুনিক। অর্থাৎ রােগটির বহিঃপ্রকাশ (Asthma অ্যাটাক, Asthmaর আক্রমণ, Asthmaর টান) হয় কিছু সময় অন্তর অন্তর।  Asthmaর একটি আক্রমণ থেকে আরেকটি আক্রমণের মধ্যকালীন সময়ে। শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতে পারে। এই সময় বিশেষ পরীক্ষা ছাড়া Asthmaর কোনও লক্ষণ দেখা না যেতে পারে। এই দিক থেকে Asthmaর সঙ্গে শিশুদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রােগ এপিলেপ্সির সাদৃশ্য আছে। 

Asthma র প্রকাশ (Asthmaর আক্রমণ) কত ঘন ঘন হবে সেটি ব্যক্তিনির্ভর এবং একই শিশুর ক্ষেত্রে ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ঋতুতে, দিনে বা রাত্রে, আক্রমণের হার ভিন্ন রকম হতে পারে। শুধু তাই নয়, Asthmaর আক্রমণের তীব্রতা বা গুরুত্ব বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হতে পারে। একটি আক্রমণ হতে পারে স্বল্পস্থায়ী ও হালকা, তার পরের আক্রমণই হতে পারে অনেক কঠিন। কোনও কোনও শিশুর ক্ষেত্রে Asthma র অধিকাংশ আক্রমণই হতে পারে হালকা ধরনের, অন্যজনের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ আক্রমণ হতে পারে ঘন ঘন ও কঠিন।

Image Source

কোনও শিশুর একবার Asthma র টান হওয়ার পর কয়েক মাস, এমনকী কয়েক বছর আর কোনও আক্রমণ না হতে পারে, আবার কোনও শিশুর প্রায় প্রত্যেক সপ্তাহেই বা প্রত্যেক দিনেই Asthma র টান হতে পারে।

এক কথায় Asthma রােগের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল রােগটির বহুরূপ ও অনিশ্চয়তা। | Asthmaর আক্রমণ হলে যে লক্ষণগুলি সাধারণত দেখা যায় সেগুলি হল

  • Asthma র প্রধান লক্ষণ শ্বাসকষ্ট। এই শ্বাসকষ্টকে নানা নামে বর্ণনা করা হয়, শ্বাসের টান ওঠা, বুকে টান ধরা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুকে দম আটকে থাকা, বুকটা কেউ চেপে ধরে আছে মনে করা, ব্রঙ্কিয়াল স্প্যাজম (বা ব্রঙ্কোস্প্যাজম) হওয়া। কখনও কখনও শিশু শ্বাসকষ্টকে বুকের ব্যথা বলে বর্ণনা করতে পারে।
  • শ্বাসকষ্টের সঙ্গে নিশ্বাস ফেলার সময় সাঁইসাঁই শব্দ (হুইজ), তার সঙ্গে কাশি। এটিকে অনেক সময় বলা হয় হুইজি ব্রঙ্কাইটিস’ (Wheezy Bronchitis)। 
  • রাত্রে শুতে যাওয়ার পর বারবার কাশি হওয়ার ধাত দেখা যেতে পারে। তার সঙ্গে, বিশেষ করে ভােরের দিকে, বুকে টান হতে পারে।
  • পরিশ্রম করলে শুকনাে কাশি, তার সঙ্গে বুকে টান বা নিশ্বাসে সাঁইসাঁই শব্দ হতে পারে।
  • অনেক হাসাহাসি করলে, অনেক কাঁদলে, চেঁচামেচি করলে বা অত্যন্ত মানসিক আলােড়ন হলে বুকের টান হতে পারে।
  • হঠাৎ ঠান্ডা-গরমে বুকে কাশি ও নিশ্বাসে সাঁইসাঁই শব্দ হতে পারে।

Asthma Mild Attack

Asthma র হালকা আক্রমণ অনেক বেশি দেখা যায়। এই অবস্থায়, অনেক ক্ষেত্রে ঠান্ডা বা সর্দি লাগার পর, বা দৌড়াদৌড়ি বা পরিশ্রম করার পর কাশি। আরম্ভ হয়, তার সঙ্গে বুকে অল্প টান হতে পারে এবং নিশ্বাসের সঙ্গে সাঁইসাঁই শব্দ হতে পারে। এখন শরীর ক্লান্ত লাগে এবং সাধারণ কাজে, খেলায় বা পড়াশােনায় মন লাগে না, খাবারে অনিচ্ছা হতে পারে।

এই আক্রমণগুলি সাধারণত অল্প সময়, কয়েক ঘণ্টা থেকে ২-৩ দিন থাকতে পারে এবং কোনও বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই অথবা Asthma র দৈনন্দিন চিকিৎসাতেই ঠিক হয়ে যেতে পারে।

Asthma Large Attack

Asthma র গুরুতর আক্রমণের রূপ সম্পূর্ণ আলাদা। এই ধরনের আক্রমণও হালকা আক্রমণের মতাে শুরু হতে পারে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে ভাল না হয়ে গিয়ে এই অবস্থায় শ্বাসকষ্ট ও কাশি ক্রমে বাড়তে থাকে। শ্বাসের সঙ্গে সাঁইসাঁই শব্দ যা প্রথমে শুধু নিশ্বাসের শেষের দিকে শােনা যেত এখন সেটি নিশ্বাস ফেলার পুরাে সময় এবং অবশেষে নিশ্বাস ফেলতে ও নিশ্বাস নিতে, সব সময়ই শােনা যায়। আস্তে আস্তে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বাড়তে থাকে, এখন শিশু বলতে পারে বুকে প্রচণ্ড চাপ লাগছে বা বুকে ব্যথা হচ্ছে। শ্বাস নেওয়ার সময় শিশুর গলার, বুকের, পেটের মাংসপেশির সংকোচন স্পষ্টই দেখা যায়, শিশু আর বিছানায় শুয়ে থাকতে পারে না। বসে, সামনের দিকে ঝুঁকে নিশ্বাস নেয়।

ক্রমে শিশুর মুখে, চোখে ভয় ও উদবিগ্নতার ছাপ দেখা দেয়, শিশুর পক্ষে কথা বলা কষ্টকর হয়ে পড়ে। শিশু ঘামতে থাকে, ঠোট, জিভ নীল, ফ্যাকাশে দেখায়।

দেনন্দিন Asthma ওষুধে এখন আর কোনও কাজ হয় না এই অবস্থায়, যত শীঘ্র সম্ভব, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার উপর শিশুর বাঁচা-মরা নির্ভর করে।

Asthma র চিকিৎসা

Asthmaর ধাত বা প্রবণতা সারিয়ে দেওয়ার কোনও চিকিৎসা এখনও বার হয়নি। কিন্তু Asthmaর আক্রমণ হলে সেটা সারিয়ে দেওয়ার এবং ভবিষ্যতে আক্রমণ যাতে না হয় বা আক্রমণের প্রকোপ কমে তার জন্য খুব কার্যকরী চিকিৎসা আছে।তা ছাড়া শিশুবয়সে Asthma শুরু হলেও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে Asthma আপনা থেকেই কমে আসে অথবা Asthmaর আক্রমণ আর হয় না।

তবে কোন ক্ষেত্রে এটি হবে তা আগে থেকে সঠিক বলা সম্ভব নয়। Asthmaর চিকিৎসাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. Asthmaর আক্রমণ হলে তার চিকিৎসা (Reliever Treatment)
  1. Asthmaর আক্রমণ যাতে না হয় তার চিকিৎসা (Preventive Treatment)

Reliever Treatment for Asthma

Asthmaর আক্রমণ উপশমের জন্য প্রধানত যে ওষুধগুলি ব্যবহার করা হয় সেগুলিকে বলে ব্রঙ্কোডাইলেটর (Bronchodilator) ওষুধ। Asthma এর প্রধান অসুবিধা হল শ্বাসনালির মাংসপেশির সংকোচন এবং শ্বাসনালি দিয়ে বাতাস আসা-যাওয়ায় বাধার সৃষ্টি। ব্রঙ্কোডাইলেটর ওষুধের কাজ হল মাংসপেশির সংকোচনকে ঢিলে করে দেওয়া। যাতে শ্বাসনালিগুলি আবার যতদূর সম্ভব আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে এবং নিশ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা দূর হয়।

শরীরে কতক্ষণ কাজ করে তার ভিত্তিতে ব্রঙ্কোডাইলেটর ওষুধগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়—

  • স্বল্প সময় কার্যকরী (Short Acting) ব্রঙ্কোডাইলেটর। এগুলি শরীরে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় কাজ করে।
  • দীর্ঘ সময় কার্যকরী (Long Acting) ব্রঙ্কোডাইলেটর। এগুলি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে।

স্বল্প সময় কার্যকরী ব্রঙ্কোডাইলেটর ওষুধের মধ্যে দুটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওষুধ হল স্যালবিউটামল (Salbutamol) এবং টারবিউটালিন (Terbutalin)। স্যালবিউটামলের আরেক নাম ভেন্টোলিন (Ventolin)। আমাদের দেশে অ্যাস্থালিন, ভেন্টোরলিন, অ্যাস্থাসল, ভেন্ট্রিল ইত্যাদি নামে বিক্রি হয়। টারবিউটালিন আমাদের দেশে ব্ৰিকানিল (Bricanyl) নামে পাওয়া যায়।

স্যালবিউটামল বা ব্ৰিকানিল সিরাপ, ট্যাবলেট, ইনহেলার (salbutamol inhaler) বা নেবুলাইজার (nebulizer) হিসাবে পাওয়া যায়।

এর মধ্যে ইনহেলার হিসাবে স্যালবিউটামল বা ব্ৰিকানিলের ব্যবহার সবচেয়ে ভালো কারণ এতে খুব তাড়াতাড়ি, কয়েক মিনিটের মধ্যে কাজ হয়। কাজেই যে শিশুর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে এবং শ্বাস নেওয়ার জন্য যে আঁকুপাঁকু করছে তার কাছে ইনহেলারের (inhaler) ওষুধ হাতে স্বর্গ পাওয়ার মতাে।

তুলনায় salbutamol বা ব্ৰিকানিল ট্যাবলেট বা সিরাপে কাজ হতে প্রায় এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। দ্বিতীয়ত, ট্যাবলেট বা সিরাপ ব্যবহার করলে যে পরিমাণ ওষুধ ব্যবহার করতে হয় সেটি ইনহেলারের চেয়ে প্রায় দশ গুণ বেশি। ফলে ট্যাবলেট বা সিরাপে ওষুধের কয়েকটি অবাঞ্ছিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

Asthma র চিকিৎসায় ইনহেলার যদিও অনেক বেশি উপযােগী ও বাঞ্ছনীয়, ও ইনহেলারের ব্যবহার আমাদের দেশে খুবই নগণ্য। এর নানা কারণ আছে, তার মধ্যে একটি প্রধান কারণ হল ট্যাবলেটের তুলনায় ইনহেলারের দাম কয়েক গুণ বেশি।

স্যালবিউটামল/ব্রিকানিল ইনহেলার নানারকমের হয়। শিশুদের পক্ষে সবচেয়ে বেশি উপযােগী ইনহেলারের উদাহরণ হল অ্যাস্থালিন বা ভেন্টোরলিন ইনহেলার অথবা ব্ৰিকানিল ইনহেলার।

যদিও অধিকাংশ Asthma আক্রমণ উপশমে ব্রঙ্কোডাইলেটর ওষুধের চিকিৎসাই যথেষ্ট, কিন্তু আক্রমণ কঠিন হলে বা যথাসময়ে চিকিৎসা শুরু না করলে দেখা যায় যে শুধু স্যালবিউটামলে শ্বাসনালির ঝিল্লির প্রদাহজনিত সমস্যাগুলি প্রশমিত করা যাচ্ছে না। এই ক্ষেত্রে অল্প কয়েক দিনের জন্য (সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন) ট্যাবলেট হিসাবে উচ্চ মাত্রার স্টেরয়ড ওষুধ অত্যন্ত কার্যকরী। তবে এই ধরনের চিকিৎসা একজন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে হওয়া দরকার

Preventive Treatment for Asthma

Asthma চিকিৎসার প্রধান অঙ্গ হল স্টেরয়ড ইনহেলার। এর সঙ্গে দরকার হলে একটি দীর্ঘ সময় কার্যকরী (লং অ্যাক্টিং) ব্রঙ্কোডাইলেটর ওষুধ দেওয়া যেতে পারে।

Asthma নিবারণের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্টেরয়ড ইনহেলার (Steroid inhaler)  পাওয়া যায়। এই ইনহেলারগুলির সাহায্যে খুব অল্প মাত্রার স্টেরয়ড ওষুধ নিয়মিতভাবে, সাধারণত দিনে দুই বার করে নিতে হয়। যেহেতু অল্প মাত্রার এই স্টেরয়ড ওষুধটি শুধু মাত্র ফুসফুসের মধ্যে কাজ করে, সেই জন্য এই ধরনের স্টেরয়ড ওষুধে অবাঞ্ছিত প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। | Asthmaর বাহ্যিক কোনও লক্ষণ না থাকলেও এই ইনহেলার সর্বদা নিয়ে যাওয়া দরকার। কারণ ইনহেলারটির কাজ হল শ্বাসনালির প্রদাহের প্রবণতাটি কমিয়ে রাখা। এই ইনহেলার নেওয়া সত্ত্বেও যদি Asthmaর আক্রমণ হয় তা হলে তখন ইনহেলারটির সঙ্গে স্বল্প সময় কার্যকরী ব্রঙ্কোডাইলেটর যােগ করে চিকিৎসা করা দরকার।

Long Acting Bronchodilator Medicine | দীর্ঘসময় কার্যকরী Bronchodilator ওষুধ

কঠিন Asthma রােগে বা Asthmaর আক্রমণ বারংবার হতে থাকলে অনেক সময় শুধু স্টেরয়ড ইনহেলারে (Steroid inhaler)  রােগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। এই ক্ষেত্রে স্টেরয়ড ইনহেলারের সঙ্গে একটি দীর্ঘ সময় কার্যকরী (Long Acting)  ব্রঙ্কোডাইলেটর ওষুধ যােগ করতে হয়। এই ধরনের ব্রঙ্কোডাইলেটর Asthma র কোনও বাহ্যিক লক্ষণ না থাকলেও স্টেরয়ড ইনহেলারের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া দরকার।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments