Bedwetting – কোন রোগ নয়, তাই শিশুকে বুঝুন ও তাকে সাহায্য করুন

bedwetting

Bedwetting বা রাতে বিছানা ভিজানো বা প্রস্রাব করে দেওয়া বাচ্চাদের একটি সাধারন সমস্যা। এই সমস্যা ছেলে মেয়ে উভয়ের হয়ে থাকে তবে অনুপাতে ছেলেদের মধ্যে দ্বিগুন দেখা যায়। তবে এটি কোন রোগ নয়, তাই অঝতা চিন্তা করার কোন কারন নেই। শিশুর বিকাশের বিভিন্ন ধাপের এর মতই শিশু এটিকে আয়ত্ত করে। বিভিন্ন শিশু বয়সের তুলনায় তাড়াতাড়ি বা একটু দেরি করে বসতে, হাটতে, কথা বলতে শেখে তেমন ভাবেই শিশুভেদে রাতে বিছানায় প্রস্রাব করার ব্যাপারেও সময়ের তারতম্য দেখা যায়।

বাস্তবে দেখা যায় যা ৫ বছরের পর অধিকাংশ শিশু আর রাতে বিছানায় প্রস্রাব করে না। দিনের বেলায় শিশুর প্যান্টে প্রস্রাব করার প্রবনতা বন্ধ হয়ে যায় আরও আগে, সাধারনত ৩-৪ বছরের মধ্যে। যদিও এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, কিন্তু চলিত রীতি অনুযায়ী ৫ বছর বয়েসের পর বিছানায় প্রস্রাব করাকে একটি সমস্যা বলে মনে করা যেতে পারে।

চারটি কারন যার জন্য রাতে বিছানায় প্রস্রাব (Bedwetting) বন্ধ হয় –

  1. বয়সের সাথে সাথে মস্তিকের ক্রমপরিণতির ফলে শিশু মূত্রাশয়ে (ব্লাডার) যথেষ্ট পরিমাণ প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা অর্জন করে।
  2. Brain Development এর সাথে সাথে শিশুর মূত্রাশয় ভরে উঠলে যা অনুভুতি হয় তার ফলে শিশুর ঘুম ভেঙে যায়।
  3. মানব শিশুর মস্তিস্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ‘ভ্যাসোপ্রেসিন’ বলে একটি হরনোম নিঃসৃত হয়। ভ্যাসোপ্রাসিন এর নানা রকম কাজ আছে আমাদের শরীরে তার মধ্যে একটি কাজ হল – রাতে মূত্রগ্রন্থি থেকে প্রস্রাব তৈরীর পরিমান কমিয়ে দেওয়া। কিছু কিছু শিশুর ক্ষেত্রে এটা হতে দেরি হয়। এটা জিন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়।
  4. শিশুকে ছোট থেকে সময়মত মলত্যাগ ও প্রস্রাবের অভ্যাস না করালে এই ধরনের সমষ্যা সৃষ্টি হতে পারে।

সাধারনত ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে শিশুকে Toilet-Training শুরু করে দিলে অধিকাংশ শিশুর মধ্যেই যথা স্থানে ও যথা সময়ে মলত্যাগ করার অভ্যাসটি আসে প্রথমে, তারপর তারা দিনের বেলায় প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়, রাতের প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আসে সবচেয়ে শেষে।

বিছানায় প্রস্রাব (Bedwetting) করাকে কখন সমস্যা বলে মনে করা হয়-

বিছানার Toilet করে দেওয়া এটাকে প্রাথমিক ভাবে রোগ বলা যায় না। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে শিশুর মধ্যে এই প্রবনতা থেকে গেলে নানারকম সাংসারিক, ব্যাবহারিক, সামাজিক ও বিশেষ করে শিশুর ক্ষত্রে মানষিক সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই এটা একটি রোগ যার চিকিৎষা করাটা জরুরী।

৪ থেকে ৫ বছর বয়সের শিশুর বিছানায় Toilet করাকে মা-বাবা রা সেই ভাবে গুরুত্ব না দিলেও সেই শিশুই যদি ৭-৮ বছরেও Bedwetting না কমে তালে চিন্তার বিষয় মনে করা হয়। যদিও এটা কোন রোগ নয় কিন্তু বাবা-মায়ের ওপর বাড়তি কাজের বোঝা চেপে যায়।

রাতের পর রাত ঘুমের ব্যাঘাত, শিশুকে নিয়ে Relative দের বাড়িতে যাওয়া নিয়ে সমষ্যা এছাড়াও অন্য সমষ্যা গুলি কোনভাবেই উপেক্ষণীয় নয়। বাবা মায়ের সাথে সাথে শিশুর ও মানষিক প্রতিকূলতার সৃষ্টি হয়। নিজেকে দোষারোপ করা, নিজেকে হেয় করা, বা নিজেকে অলস ভাবা, আত্মবিশ্বাস হারানো, অন্যরা তার গোপন কথা জানতে পারবে এর জন্য ভয় ও লজ্জায় গুটিয়ে থাকা, এগুলি সচরাচর দেখা যায়।

Bedwetting এর চিকিৎসার সময় Process গুলি-

৫ বছর বয়স থেকে আরম্ভ করে বিছানায় প্রস্রাব করাকে একটি সমস্যা বলে মনে করা হয় কিন্তু ৬-৭ বছরের আগে চিকিৎসা শুরু না করা। কমবয়সে চিকিৎসা শুরু করলে সফল্যের সম্ভাবনা অনুপাতে কম থাকে। কারন চিকিৎসার সাফল্য শিশুর শারীরবৃত্তিক পরিপূর্নতার উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। চিকিৎসার পদ্ধতি গুলি নীচে আলোচলা করা হল।

Primary Observation:

  1. Toilet Training: শিশুকে যথাসময়ে অভ্যাস করানো। সাধারনত ২ থেকে ২.৫ বছরের মধ্যে শিশুদের নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রন চলে আসে। শিশুকে ক্রমাগত উৎসাহ ও প্রশংসা করলে দেখা যায় কিছুদিনের মধ্যেই শিশু ঠিক সময়ে বিভিন্ন অভিব্যাক্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয় তার কথা।
  2. Constipation: এই সমষ্যা যদি শিশুর থাকে তাহলে কোষ্ঠবদ্ধতার সমষ্যার চিকিৎসা শুরু করে দিতে হবে।

Motivational Treatment:

প্রাথমিক স্তরে বাবা-মা শিশুকে প্রণোদিত করার জন্য এবং শিশু যেন নিজে থেকে এই উদ্দ্যোগের অংশীদার হয় তার জন্য তাকে পুরষ্কার দেওয়া হোক। সেটি যেন আবার অনেক বড় কিছু নয়, ছোট ছোট গিফট দিলেও হবে তাকে মোটিভেট করার জন্য। তার পছন্দের ছোট গাড়ি বা পুতুল দিলেও চলবে।

সারাদিনে কতটা জল বা অন্য পানীয় খাচ্ছে সেই ব্যাপারেও নজর রাখতে হবে। সাধারন বুদ্ধিতে মনে হতে পারে যে শিশু কমকরে জল খেলে Toilet পরিমানে কম হবে এবং তাতে করে Bedwetting একটু হলেও কমবে। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। তবে সন্ধ্যের পর থেকে জল কম খাওয়া উচিত।

রাতে ম-বাবা রা শেষে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অবশ্যই যেন শিশুকে তুলে Toilet করান এটাও একধরনের Toilet Training এর মধ্যে পরে।

Using bed-wetting alarm or enuresis alarm (বৈদ্যুতিক ঘন্টার সাহায্যে বিছানায় প্রস্রাব বন্ধ করার চিকিৎসা:

বিছনায় প্রস্রাব বন্দ করার চিকিৎসাগুলির মধ্যে বৈদ্যুতিক ঘন্টার সাহায্যে চিকিৎসাটিই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত এবং সাফল্যজনক চিকিৎসা। মনোবিজ্ঞানের ‘সাপেক্ষ প্রতিক্রিয়া’ (Conditioned Response) তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে এই চিকিৎসাটির প্রথম ব্যবহার হয়। এই চিকিৎসায় শিশুর বিছানায় বৈদ্যুতিক তারের জালের মত (Electrical Net) একটি চাদর পাতা হয়, যার উপর শিশু ঘুমায়। এই চাদরটির সঙ্গে একটি বৈদ্যুতিক ঘণ্টা (অ্যালার্ম) যুক্ত থাকে। শিশু বিছানায় প্রস্রাব করলে চাদর ভিজে যায় এবং ঘণ্টাটি বেজে ওঠে। বাবা-মা তখন শিশুকে জাগিয়ে বিছানা থেকে তুলে প্রস্রাবের জায়গায় প্রস্রাব করিয়ে নিয়ে আসেন। তার পর শিশু ভেজা চাদর পালটে নতুন বিছানা করায় বাবা-মা’কে সাহায্য করে এবং শুকনো বিছানায় শুয়ে পড়ে।

কিছুদিন এটা করার পর দেখা যায় যে বিছানায় প্রস্রাব করার আগেই, শিশুর মূত্রাশয় যখন ভরে ওঠে, তখন আপনা থেকে শিশুর ঘুম ভেঙে যায় বেএবং শিশু নিজেই প্রস্রাবের জায়গায় গিয়ে প্রস্রাব করে আসতে পারে।

সাধারণত ৭ বছর বয়সের আগে বিছানায় প্রস্রাব বন্ধ করার জন্য অ্যালার্ম ব্যবহার করা হয় না। অ্যালার্ম ব্যবহারে যে মানসিক প্রস্তুতি ও উৎসাহ দরকার সেটি শিশুর বয়স খুব কম হলে সৃষ্টি করা সহজ নয়। অ্যালার্ম ব্যবহার করতে হলে সেটির উদ্দেশ্য শিশুকে সম্পূর্ণ বুঝিয়ে, তার সঙ্গে খোলাখুলি সব আলোচনা করে এবং তার কী করণীয় সে সম্বন্ধে। একমত হয়ে এর ব্যবহার শুরু করা দরকার। অ্যালার্মে কাজ হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের উপদেশ হল অন্তত ৩ মাস একনাগাড়ে অ্যালাম ব্যবহার করে যদি কাজ না হয় তা হলে কিছুদিন বাদ দিয়ে আবার অ্যালাম ব্যবহার করা যেতে পারে। ঠিকমতো ব্যবহার করলে দেখা যায় যে অ্যালামে সাফল্যের হার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ।

ওষুধের সাহায্যে বিছানায় প্রস্রাব (Bedwetting) বন্ধ করার চিকিৎসা:

আগেই বলা হয়েছে যে, আমাদের মস্তিষ্কের পোস্টিরিয়র পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ভ্যাসোপ্রেসিন বলে একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যার বিভিন্ন কাজের মধ্যে একটি কাজ হল মূত্রগ্রন্থি (কিডনি) থেকে প্রস্রাব তৈরির পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া।

রসায়নবিদরা কৃত্রিম উপায়ে (সিনথেটিক) ভ্যাসোপ্রেসিন মতো একটি ওষুধ তৈরি করেছেন যার নাম ডেসমোপ্রেসিন। ভ্যাসোপ্রেসিনের মতো ডেসমোপ্রেসিনও মূত্রগ্রন্থি (কিডনি) থেকে প্রস্রাব তৈরির পরিমাণ কমায়। ডেসমোপ্রেসিন ট্যাবলেট বা নাকের ভিতরে দেওয়ার জন্য স্প্রে (ন্যাজাল। স্প্রে) হিসাবে পাওয়া যায়। বিছানায় প্রস্রাব বন্ধ করার জন্য ডেসমোপ্রেসিন ব্যবহার আস্তে আস্তে বাড়ছে।

সাধারণত অ্যালার্মের সাহায্যে চিকিৎসা করে যদি সফলতা না পাওয়া যায় তখন ডেসমোপ্রেসিন ব্যবহার করা যায়। বিশেষ প্রয়োজনে, যেমন শিশুকে কয়েক দিনের জন্য আত্মীয়স্বজনের বা বন্ধুবান্ধবের বাড়িতে থাকতে হলে বা স্কুলের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে রাত্রি-বাস করতে হলে। এই সময়টি অন্তত যাতে শিশু বিছানায় প্রস্রাব করে লজ্জায় না পড়ে, তার জন্য ডেসমোপ্রেসিন ব্যবহার খুবই ফলপ্রসূ।

আরও বেশি দিনের জন্য ডেসমোপ্রেসিন ব্যবহারও আস্তে আস্তে বাড়ছে। অ্যালার্ম ব্যবহারে সফল না হলে বা অ্যালার্মের বিকল্প হিসাবে যদি ডেসমােপ্রেসিন ব্যবহার করা হয় তা হলে অন্তত ৩ মাস একনাগাড়ে এই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া দরকার। | ডেসমোপ্রেসিন যদিও খুবই কার্যকরী ওষুধ কিন্তু অ্যালার্মের তুলনায় ডেসমোপ্রেসিন বন্ধ করে দেওয়ার পর আবার বিছানায় প্রস্রাব শুরু করার হার (রিলান্স রেট) অনেকখানি বেশি।

ডেসমোপ্রেসিন আরেকটি সমস্যা হল যে ওষুধটি যথেষ্ট দামি, কাজেই বেশিদিনের জন্য এই ওষুধের ব্যবহার সব বাবা-মায়ের পক্ষে সম্ভব নয়।

৬ বছর বয়সের নীচে ডেসমোপ্রেসিন ব্যবহার করা ঠিকনয়। ডেসমোপ্রেসিন ট্যাবলেট আমাদের দেশে ডি-প্রেসিন বা মিনিরিন নামে পাওয়া যায়। শিশু ঘুমোতে যাওয়ার আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা আগে শিশুকে ট্যাবলেটটি দেওয়া হয়। খাওয়ার আগে বা পরে ট্যাবলেট দেওয়া যায়। ট্যাবলেটে কাজ। হয় প্রায় ৮ ঘণ্টার মতো।

ট্যাবলেট খাওয়ার পর থেকে এই ৮ ঘণ্টা সময় শিশুকে জল বা অন্য কোনও পানীয় খেতে দেওয়া যাবে না। ট্যাবলেট খাওয়ার পর যদি জলতেষ্টায়। শিশুর ঘুম ভেঙে যায় তা হলে শুধু গলাটি ভেজানোর জন্য অল্প পরিমাণ জল খেতে পারে।

আগেই বলা হয়েছে যে অ্যালার্ম ব্যবহারে বিছানায় প্রস্রাব বন্ধ হতে বেশ কয়েকদিন, এমনকী কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। কিন্তু ডেসমমাপ্রেসিনের ফল দেখা যায় খুব তাড়াতাড়ি। ডেসমমাপ্রেসিন ব্যবহার শুরু করার ২-১ দিনের মধ্যে শিশুর বিছানায় প্রস্রাব করা বন্ধ হয়ে যায়, তবে ওষুধ বন্ধ করলে আবার প্রস্রাব শুরু করার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

বিশেষজ্ঞের উপদেশ ছাড়া এই ওষুধগুলি ব্যবহার করা ঠিক নয়।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments