চুলের বিষয়ে সাধারন কিছু আলোচনা – A small introduction about our Hair4All

Hair4All বা নারীর লম্বা সুন্দর চকচকে চুল যে প্রাচীনকাল থেকেই একটু বিশেষ মনােযােগ আর যত্ন দাবি করে আসছে তার প্রমাণ সংস্কৃত সাহিত্যে ছড়িয়ে আছে। বৈদিক যুগের নারীও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। ঋষি জমদগ্নী নিজ কন্যার চুলের পরিচর্যার জন্যে মাটি খুঁড়ে কেশবর্ধনী লতা সংগ্রহ করেছেন জানা যায়। নানা ধরনের সুগন্ধী তেলের ব্যবহার তাে ছিলই। ‘কামসূত্র’ রচয়িতা ব্যাৎসায়ন জানিয়েছেন একটি দুর্দান্ত ভেষজ তেলের ফর্মুলা, যা ব্যবহার করলে চুল লম্বা, ঘন কালাে হবে। পড়ে যাওয়া চুল আবার গজাবে। মদয়ন্তিকা, হলুদ অ্যামারাহু, অঞ্জনিকা, শ্লাক্ষপণী ও ক্লাইটোরিয়ার গাছের শিকড়ের রস দিয়ে তৈরি হয় এই লােশন। এইসব শিকড়গুলিকে তেলে ফুটিয়ে, ভালাে করে চিপে রস বার করে নিয়ে চুলে লাগালেই হবে। মাথার চামড়ার মধ্যে অসংখ্য ফলিকল অর্থাৎ সূক্ষ ছিদ্র বা কূপ আছে। এই ফলিকল থেকেই সরু সুতাের মতাে যে বহির্মুখী বৃদ্ধি হয় তাকেই আমরা বলি চুল। চুল আমাদের মাথাকে তাপ ও আঘাত থেকে রক্ষা করে।

চুলের গঠন

  • প্রধান বহিঃপ্রসারিত বা মেইন শ্যাফট, চুলের এই অংশটি করােটির ত্বকের বাইরে প্রসারিত থাকে। 
  • ফলিকল : প্রতিটি চুলের গােড়া থেকে এক একটি থলির মধ্যে বা মূল চামড়ার মধ্যে বসানাে থাকে। একে হেয়ার ফলিকল বলে। 
  • সেবাশিয়াস গ্রন্থি : ফলিকলের পাশে অবস্থিত। এই গ্রন্থিটি চুলকে তেল (সেবাম) সরবরাহ করে। 
  • প্যাপিলা: ফলিকলের শেষ অংশে ক্ষুদ্র সাদা পাব দেখতে পাওয়া যায় আর তারপরেই থাকে প্যাপিলা। এটি চুলের পুষ্টি জোগায় এবং তার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। চুল টেনে তুললে গােড়ায় সাদা মতাে লম্বাটে অংশ দেখা গেলেও প্যাপিলা ভেতরে থাকে। প্যাপিলা নতুন চুল তৈরি করতে সাহায্য করে।।
  • পিলি পেশী : এই পেশীটি চুলকে সােজা রাখতে সাহায্য করে।
  • রঞ্জক পদার্থ বা পিগমেন্ট গ্র্যানউলস : চুলের রঙ নির্ধারণ করে। এটি কর্টেক্স স্তরে থাকে।
  • কিউটিকল : স্বচ্ছ মাছের আঁশের মতাে কোষ দিয়ে তৈরি। এটি ভেঙে গেলে চুলের ক্ষতি হয়। এটি কর্টেক্সকে ঢেকে রাখে।

ফলিকলের গঠনের ওপর চুলের গঠন নির্ভর করে। গােলাকার ফলিকল সােজা স্বাভাবিক চুল তৈরি করে। সামান্য বাঁকা ফলিকল ঢেউ খেলানাে চুল তৈরি করে। আঁকাবাঁকা ফলিকল থেকে কেঁকড়ানাে চুল তৈরি হয়। প্রতিটি ফলিকলের সাথে তৈলগ্রন্থির যােগ আছে। তৈলগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত তেল ফলিকলে জমা হয় ও এই তেলই চুলকে তৈলাক্ত, চকচকে ও মসৃণ করে তােলে। তৈলগ্রন্থি থেকে যদি কম তেল নিঃসৃত হয় তাহলে চুল শুষ্ক হয়ে যায়। আবার বেশি তেল নিঃসৃত হলে চুল অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়।

চুলের আয়ু ও ঘনত্ব

চুলের আয়ু সাধারণত দুই থেকে ছয় বছর হয়। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতি মাসে আধ ইঞ্চি করে চুলের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়। গড়ে তিন বছর একটানা চুলের বৃদ্ধি চলে। তারপর সেই চুল পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে একটি নতুন চুল জন্মায়।

চুলের পুষ্টি বা চুলের কীভাবে যত্ন নেবেন জানতেঁ এই ক্লিক করুন

চুলের বৃদ্ধির বিভিন্ন ধাপ

চুলের বৃদ্ধির প্রধানত তিনটি ধাপ বা স্তর আছে। আমাদের মাথার সমস্ত চুল একইসঙ্গে একইভাবে বাড়ে । এবং একই সঙ্গে সব চুল পড়েও যায় না।

  • অ্যানাজেন : এটি হচ্ছে প্রথম ও সক্রিয় অবস্থা। এই সময়ে নতুন চুল গজায় এবং বাড়তে থাকে।
  • ক্যাটাজেন: বৃদ্ধির বিশ্রাম অবস্থা। মােটামুটি দুই থেকে ছয় বছর ক্যাটাজেন ধাপ থাকে।
  • টেলােজেন: এই সময়ে চুল পড়ে যায়।

চুলের পরিচর্যা

 নানা কারণে চুল তার সজীবতা হারায় ও উঠে যায়। সঠিক পরিচর্যার দ্বারা চুলের অনেক সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

চুলের টোনিং ব্যায়াম

চুলের জট ছাড়িয়ে ব্রাশের সাহায্যে চুল আঁচড়াতে হবে। এরপর দুই হাতের আঙুলের ডগা দিয়ে ধীরে ধীরে চেপে চেপে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন। ভিজে চুলে ম্যাসাজ করবেন না। স্বাভাবিক চুলের ক্ষেত্রে সপ্তাহে ৩/৪ দিন ম্যাসাজ করলেই হবে। কিন্তু যাদের চুল শুষ্ক তাদের প্রতিদিন একবার ম্যাসাজ অবশ্যই করতে হবে। তৈলাক্ত চুল যাঁদের তারা প্রতিবার শ্যাম্পু করার পূর্বে মাথা ম্যাসাজ করবেন। ৫/১০ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করলেই যথেষ্ট। ম্যাসাজ করলেই মাথার বিভিন্ন কোষে রক্ত সংবহনের ধারা অনেক বেশি বেড়ে যায়। ফলে চুল মাথার ত্বক থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে আরও উজ্জ্বল ও সতেজ হয়ে ওঠে৷

কন্ডিশনিং

রােদ, শুষ্ক আবহাওয়া, নােনা বা বিষাক্ত জল, ধুলােবালি ইত্যাদি বিষাক্ত পরিবেশের ফলে চুলের প্রথম স্তর বা কিউটিকলের ক্ষতি হয়। ফলে চুল হারায় তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। এছাড়া ডগা চিরে যাওয়া, চুলের শুকনাে ভাব ও মাঝে মাঝে ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারে একমাত্র কন্ডিশনার।

শ্যাম্পুর ব্যবহার

চুলে কন্ডিশনিং করার পর শ্যাম্পু দ্বারা চুল ধুতে হবে। প্রথমে মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে ঠাণ্ডা জলে পুরাে চুল ভাল করে ভিজিয়ে নিন। এবার হাতে প্রয়ােজনমত শ্যাম্পু নিয়ে দুহাতের তালুতে লাগিয়ে মাথার ত্বকে এবং সারা চুলে মাখান। মাথার ত্বক আঙুলের ডগার সাহায্যে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করুন। চুল কখনও এক জায়গায় পুঁটুলি করে ঘষবেন না, এতে চুলে জট লেগে যেতে পারে। চুলে প্রচুর পরিমাণে জল ঢেলে ভাল করে ধুয়ে নিন। দেখবেন, চুলে শ্যাম্পু যেন লেগে না থাকে। চুলে শ্যাম্পু লেগে থাকলে চুল চটচটে ও আঠালাে হয়ে যাবে। প্রয়ােজনবােধে চুলে আরেকবার শ্যাম্পু দিতেও পারেন।

ঘরােয়া পদ্ধতিতে শ্যাম্পু

একটি গামলায় জল দিয়ে ১০-১২টি করে রিঠে, আমলকি ও শিকাকাই সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। তার পরের দিন জলটি ফুটিয়ে নিন। ঠাণ্ডা হলে সব উপকরণ চটকে ছেঁকে নিন। এই জলটি দিয়ে তিন-চারবার মাথা ধুয়ে নিন। পরিমাণমত বেসনের গােলা বানিয়ে সারা মাথায় শ্যাম্পু করার মতাে লাগিয়ে নিতে হবে। এরপর জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। | চুল শুকাননা : চুল জলে ধােয়ার পর ভিজে চুলকে প্রথমে আঙুল দিয়ে জট ছাড়িয়ে তারপর একটা তােয়ালে দিয়ে পুরাে চুলকে জড়িয়ে রাখুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তােয়ালে চুলের বাড়তি জল শুষে নেবে। এবার তােয়ালে খুলে সারা চুল পিঠের ওপর ছড়িয়ে দিন। কেবলমাত্র হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করে চুল ঘাড়ের পাশে বা পিঠের ওপর ছড়িয়ে শুকিয়ে নেবেন।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

[…] […]

[…] A small introduction about our Hair4All […]