চুলের পুষ্টি বা যত্ন নেবেন কীভাবে – All about hair care

শ্যাম্পু করা চুল শুকিয়ে নেবার পর অবশ্যই কোনও তেলহীন কন্ডিশনার বা ক্রিম কন্ডিশনার চুলে লাগিয়ে নেবেন। অনেকে শ্যাম্পু করার পর চুলে তেল মাখতে চান না, তারা শ্যাম্পু করার আগেই চুলে কিছু তেলযুক্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনারের বদলে বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে hair care করা যায়। ঘরােয়া অনেক জিনিস আছে যা চুলের জৌলুস ফিরিয়ে ঝলমলে ভাব এনে দেয়। নীচে সেগুলি সম্বন্ধে আলােচনা করা হল।

* চা-পাতা

উপাদান : চা পাতা ২ চামচ, জল ২ লিটার, কাগজী লেবুর রস হাফ চামচ।

প্রস্তুতি: জলে পরিমাণ মতাে চা-পাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। ঠাণ্ডা হলে ঘেঁকে লেবুর রস মেশান।

* পার্সলে পাতা

উপাদান : পার্সলে পাতা ১ মুঠো, জল ৩ লিটার।

প্রস্তুতি : পার্সলে পাতা দিয়ে জল ফুটিয়ে নিন। ঠাণ্ডা হলে। ঘেঁকে নিন।

ব্যবহার : শ্যাম্পুর শেষে চুল ধােওয়ার পর এই মিশ্রণ দিয়ে পুনরায় চুল ধুয়ে শুকিয়ে নিন। চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ানাের এটি একটি ভাল উপায়।

* পাতিলেবু

উপাদান : ২ লিটার জল, ২টি লেবু।

প্রস্তুতি : জলে লেবুর রস মিশিয়ে হেঁকে নিন।

ব্যবহার : শ্যাম্পুর পর চুল ধুয়ে শেষে এই মিশ্রণ দিয়ে। পুনরায় ধুলে চুলের মসৃণতা ও ঝলমলে ভাব বাড়বে।

*ভিনিগার

উপাদান : ২ লিটার জল, ২ চামচ ভিনিগার।

প্রস্তুতি: জলে ভিনিগার মিশিয়ে ভাল করে নাড়িয়ে নিন।

ব্যবহার : শ্যাম্পুর পর চুল ধুয়ে এই মিশ্রণ দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। চুলের জৌলুস বাড়বে।

শুষ্ক চুলের পিছনে কারণ – Cause of dry hair

চুলের বিষয়ে সাধারন কিছু আলোচনা – A small introduction about our Hair4All

চুলের বিভিন্ন সমস্যা :

চুল পড়া

যে পরিমাণ মৃত চুল পড়ে যায়, সেই পরিমাণে যদি নতুন চুল না গজায়, তখনকার অবস্থাকেই সাধারণত চুল পড়া’ বলা হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যা এত প্রবল যে প্রতিবার আঁচড়ানাের সময় গােছা গােছা চুল চিরুনির সঙ্গে উঠে আসে। এমনকি চুল ধােওয়ার সময়েও এইভাবে চুল ওঠে৷ এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় হরমােন ঘটিত গােলযােগের কারণে, বিশেষত গর্ভধারণের পরে এবং রজোনিবৃত্তি বা মেনােপােজের সময়। মহিলারা গর্ভনিরােধক বড়ি খাওয়া বন্ধ করে দিলেও এই সমস্যার উদ্ভব হয়, কারণ এর ফলে শরীরে ইস্ট্রোজের হরমােনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। কীভাবে hair care করবেন তার আগে জেনেনিন কি কি কারনে চুল পড়ে।

নিম্নলিখিত কারণগুলি অত্যধিক চুল পড়ার জন্য দায়ী

  • আকস্মিক মানসিক আঘাত
  • নেশার ওষুধ ব্যবহার বা অন্যান্য ওষুধের অপব্যবহার
  • অতিরিক্ত ডায়েটিং
  • প্রচণ্ড জ্বর ও দেহের উচ্চ তাপমাত্রা
  • পরিবেশের পরিবর্তন
  • ক্রমাগত দুশ্চিন্তা ও টেনশন
  • খুসকি
  • করােটিচর্মের সংক্রামক রােগ
  • রাসায়নিক পদার্থের অতিরিক্ত ব্যবহার

নিম্নলিখিত উপায়ে চুল পড়ার প্রতিকার করা যায়

  • পাঁচ চামচ নারকেলের দুধে এক চামচ লেবুর রস ও এক চামচ আমলার রস মিশিয়ে মাথায় লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন ঠাণ্ডা জল দিয়ে।
  • ডিমের হলুদ অংশ ও আমের শাঁস একসঙ্গে মিশিয়ে সেটি লাগান চুলের গােড়ায়। আধঘন্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।
  • শসার রস ও মেথিবাটা একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি চুলের গােড়ায় লাগান।
  • চায়ের পাতা ফুটিয়ে নিন ডাবের জলে। এই মিশ্রণটি মাথায় লাগান।
  • তরমুজের রস ও ডাবের জল একসঙ্গে মিশিয়ে তা সপ্তাহে একদিন মাথায় লাগান পর্যাপ্ত পরিমাণে। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
  • রাতে শােওয়ার ঘন্টাখানে আগে ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে যে কোনও ভেষজ তেল মিশিয়ে ঈষদুষ্ণ গরম করে আঙুলের ডগা দিয়ে মাথায় ভালভাবে ম্যাসাজ করুন। পরের দিন স্নানের ঘন্টাখানেক আগে ভিনিগারের সঙ্গে লেবুর রস মাথায় লাগান। এরপর মাথায় শ্যাম্পু করুন। শ্যাম্পুর পর ১ কাপ গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বক এবং চুল ভালভাবে ধুয়ে নিন।
  • ভৃঙ্গরাজ পাতা সেদ্ধ করে জলটা হেঁকে নিয়ে প্রতিদিন ২ বার করে মাথা ধুলে চুল পড়া বন্ধ হয়ে যায়।

টাকপড়া

শরীরে প্রয়ােজনীয় হরমােন নিঃসৃত না হলে টাক পড়তে পারে। সন্তান প্রসবের পর অধিকাংশ মহিলারই অস্বাভাবিক হারে চুল উঠতে থাকে, ফলে টাক পড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। অতিরিক্ত টেনসন, মানসিক দুশ্চিন্তা বা শারীরিক অবসাদও টাক পড়তে সাহায্য করে। অনেক সময় মাথার ত্বকে এক ধরনের জীবাণু সংক্রমণের ফলে টাক পড়ে। এক্ষেত্রে চর্মরােগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া প্রয়ােজন। এছাড়া শক্ত করে চুল বাঁধার ফলে প্যাপিলার স্থানচ্যুতি ঘটায়। প্যাপিলা শুকিয়ে গিয়ে নতুন চুল তৈরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টাক পড়তে পারে। আসুন জেনে নেই কীভাবে Hair care করে টাকপড়া থেকে মুক্তি পাব।

নিম্নলিখিত উপায়ে টাক পড়ার প্রতিকার করা যায়

ধানি পেঁয়াজ বেটে চুল উঠে যাওয়া অংশে লাগাবেন। ৩০ মিনিট পর গােলমরিচ বেটে সামান্য সাদা লবণ দিয়ে একই জায়গায় লাগান। মুলতানি মাটির সঙ্গে ধুতরাে বীজের গুঁড়াে মিশিয়ে মাথায় লাগালে টাক পড়বে না।

তৈলাক্ত চুল

স্ক্যাল বা করােটি চর্মের উপরের চুলকে, তৈল গ্রন্থিগুলি (সেবাশিয়াম) স্বাভাবিক তেল ক্ষরণের দ্বারা পিচ্ছিল ও তৈলাক্ত করে রাখে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের তৈলগ্রন্থিগুলি থেকে প্রয়ােজনের তুলনায় বেশি তেল ক্ষরণ হচ্ছে। ফলে তাদের চুল ও স্ক্যাল তেলতেলে হয়ে পড়ে। এরকম চুল সবসময় নেতিয়ে থাকে। শ্যাম্পু করলে কিছুটা সােজা হয়ে কেঁপে ওঠে, এক-দুই দিন পরেই ফের নেতিয়ে পড়ে।

নিম্নলিখিত কারণগুলি তৈলাক্ত চুলের জন্য দায়ী

এই সমস্যার পিছনে থাকে কোনও গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থিজনিত সমস্যা। প্রধানত বয়ঃসন্ধিকালে এই সমস্যাটি লক্ষণীয়ভাবে প্রবল হয়ে ওঠে এবং চুলের সঙ্গে সারা মুখও তেলতেলে হয়ে থাকে। সমস্যাটির কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ হল গর্ভসঞ্চার, জলবায়ুগত পরিবর্তন, অতিরিক্ত নার্ভাস হয়ে পড়া এবং বেশি পরিমাণে তেলমশলা দেওয়া খাবার খাওয়া। তৈলগ্রন্থিগুলির অতিরিক্ত ক্ষরণ কিছুতেই কমানাে সম্ভব নয়।

নিম্নলিখিত উপায়ে টাক পড়ার প্রতিকার করা যায়

সুতরাং যা দরকার তা হল, চুল সর্বদা পরিষ্কার রাখা এবং কম তেলযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা। ডায়েট বা নিয়মিত খাদ্যাভাসের ব্যাপারেও সতর্ক হওয়া প্রয়ােজন। অতিরিক্ত মশলাদার ও চর্বিযুক্ত খাবার এবং কড়া চা ও কফি এড়িয়ে চলা একান্ত দরকার। এইসব খাবার সেবাশিয়াম গ্রন্থিগুলির কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তােলে। প্রােটিনযুক্ত খাবার, তাজা শাকসবজি, মাছ ও নানারকম ফল খেলে এই সমস্যা অনেক কমে।

শুষ্ক চুল

শুষ্ক চুলের পিছনে কারণ প্রধানত দুটি, তৈলগ্রন্থির নিষ্ক্রিয়তা অথবা সেগুলির সংখ্যাল্পতা। শুকনাে চলের প্রধান লক্ষণ। বিবর্ণ ও অনুজ্জ্বল চুলএবং ভঙ্গুর ও ফাটা ডগা। শুকনাে চুলের স্থিতিস্থাপকতা নেই বললেই চলে। তার ফলে সামান্য টান পড়লেই এই চুল ছিড়ে যায়।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

[…] চুলের পুষ্টি বা যত্ন নেবেন কীভাবে – All ab… […]